বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নির্বাচিত আলোকচিত্র সংরক্ষণাগার
এই আলোকচিত্রগুলো মূলত নোয়াখালী-তে ধারণ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উত্তাল দিনগুলোতে নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা, স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ঐতিহাসিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন — তাদের সাহস, প্রতিরোধ ও একতার মুহূর্তগুলো এই সংরক্ষণশালায় ধরে রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ ছিল ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক ঐতিহাসিক মহাবিপ্লব। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের নির্মম দমন-পীড়ন, নিরীহ শিশু, ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং বর্বর গণহত্যা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। শত শত শহীদের রক্ত ও হাজারো ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব প্রতিরোধের মুখে ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ এক নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পায়। এই বিপ্লবের প্রতিটি বীরত্বপূর্ণ মুহূর্ত আলোকচিত্রের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্য দলিল হিসেবে তুলে ধরাই এই আর্কাইভের মূল লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর প্রধান ঘটনাসমূহের দিনলিপি
হাইকোর্ট ২০১৮ সালে বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের রায় দেয়; নতুন করে আন্দোলনের সূচনা।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
"বাংলা ব্লকেড" কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী সড়ক ও রেল অবরোধ শুরু।
আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা (Status Quo) জারি করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার "রাজাকার" মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা; শতাধিক আহত।
রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন; সারা দেশে আন্দোলন তীব্র হয়।
শহীদদের গায়েবানা জানাজা; বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ; দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা।
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; বহু হতাহত; সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়।
কারফিউ, ব্যাপক গ্রেপ্তার ও অভিযানের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা।
সুপ্রিম কোর্ট কোটা ব্যবস্থা সীমিত আকারে পুনর্বিন্যাস করে; তবুও আন্দোলন চলতে থাকে।
ডিবি হেফাজত থেকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের মুক্তি।
আন্দোলনের দাবি কোটা সংস্কার ছাড়িয়ে বিচার, ক্ষমা প্রার্থনা ও জবাবদিহিতার দিকে বিস্তৃত হয়।
"এক দফা" দাবি ঘোষণা: শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ।
দেশব্যাপী সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি; পরদিন "মার্চ টু ঢাকা" কর্মসূচি ঘোষণা।
লাখো মানুষের "মার্চ টু ঢাকা"; শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ও দেশ ত্যাগ করেন; গণভবনে জনতার প্রবেশ; অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা।
মেহেদী হাসান একজন সফটওয়ার্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং আলোকচিত্রী। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Information & Communication Engineering-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি NSTU Photography Club-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর এই ঐতিহাসিক আলোকচিত্র আর্কাইভটি তাঁর নিজের ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবির সংকলন — যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য দৃশ্যমান দলিল।